Manabota

Manabota

রবিবার, ২০ মে, ২০১২

আমি বিজয় দেখিনি তবে অনেক দেখেছি !!!! by Sohail Choudhury



 
বিজয়ের দিনটিতে ছোট ছিলাম; তাই তেমন কিছুই সেদিন দেখিনি
স্বাধীন এ দেশে নিজামীর গাড়ীতে স্বাধীনতার সেই পতাকা উড়তে দেখেছি
 
যুদ্ধকালীন যুদ্ধরত মায়াকে আমি দেখিনি
স্বাধীন এ দেশে মায়া-বাহিনীর তান্ডবলীলা দেখেছি
 
করাচীতে বসে সাকা বাহিনীর ষড়যন্ত্রের কথা শুনেছি
স্বাধীন এ দেশে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হতে তাকে দেখেছি
 
যুদ্ধকালীন বাঘাকাদেরের বীরগাঁথা আমি শুনেছি
স্বাধীন এ দেশে সে বাঘের গলায় গামছা ঝুলতে দেখেছি
 
কোথা ছিল এরশাদ সেই দিনগুলোতে, কারো কাছে কভূ শুনিনি
প্রজাতন্ত্রের রাজার আসনে ন'টি বছর তাকে দেখেছি
 
মহান মুজিবের স্বাধীনতা বিরোধীকে ক্ষমার কথা শুনেছি
তাঁরই নাতনীর শ্বশুর হয়েছে, নিজেই আমি দেখেছি
 
আমি বিজয় দেখিনি : তবে অনেক দেখেছি !!!!
 
Sohail  Choudhury
Mobile: +880-1191350884
 

শুক্রবার, ১৮ মে, ২০১২

শি ল্প ক লা /// লবণের শিল্পকর্ম!

খাদ্যে ব্যবহৃত এক ধরনের দানাদার এবং সাদাটে বর্ণের পদার্থ হচ্ছে লবণ। এর মূল উপাদান সোডিয়াম ক্লোরাইড। প্রাণীর জীবনধারণের জন্য এটি অপরিহার্য। কিন্তু অধিকাংশ স্থলজ উদ্ভিদের জন্যই তা বিষতুল্য। লবণের স্বাদকে মৌলিক স্বাদের একটি উপাদান বলে গণ্যও করা হয়। পৃথিবীর সর্বত্র এটি বিভিন্ন খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মানুষের খাদ্যে বিভিন্ন ধরনের লবণ ব্যবহার করা হয়। যেমন, অপরিশোধিত লবণ, পরিশোধিত খাবার লবণ, আয়োডিনযুক্ত লবণ ইত্যাদি। সমুদ্রের পানি থেকে অথবা খনি থেকে সাধারণত লবণ আহরণ করা হয়। লবণ পানিগ্রাহী পদার্থ বলেই পরিচিত। তাই বর্ষাকালে এতে পানি জমতে থাকে। সমুদ্রের লোনা পানি ফুটিয়ে বাষ্পীভূত করে উৎপাদন করা হয় লবণ। এ ছাড়া লবণাক্ত কূপ অথবা লবণাক্ত হ্রদের পানি থেকেও লবণ আহরণ করা হয়ে থাকে। লোনা পানির পাশাপাশি পাথুরে খনি থেকেও লবণ সংগ্রহ করা হয়। 
খাদ্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করা হলেও বেশি লবণ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য যে ক্ষতিকর, এ তথ্য সর্বজন স্বীকৃত। চিকিৎসকরা সবসময়ই কাঁচা লবণ বর্জন এবং পরিমিত লবণ খেতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ [স্ট্রোক], হার্ট অ্যাটাক, কিডনি ও হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশ্বের যেসব জনগোষ্ঠী লবণ কম খায়, তাদের আশি ভাগেরই উচ্চ রক্তচাপ থাকে না। অন্যদিকে যেসব এলাকার মানুষ লবণ বেশি খায়, সেখানকার প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় অর্ধেকই উচ্চ রক্তচাপে ভোগে। যেমন, জাপানে উচ্চ রক্তচাপ মহামারির মতো বিস্তার লাভ করেছে। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করলে উচ্চ রক্তচাপ ছাড়াও অস্টিওপোরোসিস, পাকস্থলীর ক্যান্সার; শারীরিক স্থূলতাও হতে পারে। অ্যাজমা থাকলে এর উপসর্গগুলো আরও বৃদ্ধি পায়। আমাদের দেশে খুব একটা গবেষণা না হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার [হু] হিসাবে প্রতিদিন একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি পাঁচ গ্রাম [এক চা-চামচ] বা তারও কম লবণ গ্রহণ করতে পারেন। অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এ পরিমাণ অবশ্যই আরও কম হতে হবে।
মানবদেহের জন্য অপরিহার্য এই লবণ দিয়ে যে শিল্পকর্ম করা সম্ভব, তা অনেকেরই অজানা। বিশ্বাসও করতে চাইবেন না কেউ। কিন্তু সম্প্রতি জাপানি শিল্পী মটোই ইয়ামামোটো লবণ দিয়ে তৈরি করেছেন বিচিত্র সব শিল্পকর্ম। তার তৈরি সব নকশা, মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি সবই লবণের তৈরি! সত্যিই এক অবিশ্বাস্য কারুকাজ। ১৯৯৬ সালে ব্রেইন ক্যান্সারে বোন মারা যাওয়ার পর প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছিলেন মটোই। বোন হারানোর শোক কাটাতে সাহায্য নেন পবিত্র লবণের। লবণ দিয়ে বানানো শুরু করেন বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্ম। জাপানিদের কাছে লবণ হচ্ছে শুদ্ধতা ও পবিত্রতার প্রতীক। রীতি অনুযায়ী, শেষকৃত্যের পর মৃত ব্যক্তির স্বজনদের গায়ে লবণ ছিটিয়ে দেওয়া হয়। তাদের ধারণা, এর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির আত্মা কোনো স্বজনকে কখনোই কষ্ট দেবে না। কোনো অশুভ ছায়াও পড়বে না স্বজন হারানো শোকার্ত ব্যক্তিদের ওপর।
সম্প্রতি জাপানি শিল্পী মটোই ইয়ামামোটোর লবণের তৈরি এই শিল্পকর্মগুলোর এক প্রদর্শনী হয়। প্রদর্শনী চলে জাপানের হাকওয়ান ওপেন-এয়ার মিউজিয়ামে। সেখানে প্রতিদিনই তিনি লবণ দিয়ে তৈরি করেন একের পর এক চোখ ধাঁধানো আকর্ষণীয় নকশা। কখনও লবণ দিয়ে বানিয়েছেন বড় বড় দেয়াল, কখনও লম্বা গম্বুজ, আবার কখনও বিশাল বিশাল চমৎকার নকশা। ছোট্ট তেলের কৌটায় লবণ ভরে তা দিয়ে এই কীর্তিগুলো তৈরি করেন তিনি। প্রতিটি প্রদর্শনী শেষে তিনি লবণগুলো সমুদ্রজলে বিসর্জন দেন। তার মতে, লবণগুলো সমুদ্রের বুকে ফেলে দেওয়ার অর্থ হলো, মানুষ ফিরে না এলেও প্রাকৃতিক নিয়মে এগুলো আবার লবণ হয়ে ফিরে আসে। আসবে বারবার। সত্যি কী বিচিত্র খেয়াল মানুষের! কী বিচিত্র চিন্তা-ভাবনা!

লেবু-মধু পানীয় ওজন কমাতে সাহায্য করে / ডা. মালিহা শিফা


ওজন কমাতে আমরা যেন অনেকে একটু বেশিই সচেতন। তবে ওজন বাড়ানোর সময় এ বিষয়টি খুব কম লোকেরই খেয়াল থাকে। তাই মনে রাখা ভালো ওজন কমানোর চেয়ে ওজন না বাড়ানোই ভালো।
ওজন কমাতে আমরা চা, ওজন কমানোর ওষুধ কিংবা ব্যায়ামও করে থাকি। তবে চা এবং ওজন কমানোর ওষুধে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে।
তবে ওজন কমাতে প্রাকৃতিক উপাদান মধু ও লেবু কার্যকরী। তা পরীক্ষিত এবং সারা বিশ্বে সমাদৃত ও স্বীকৃত। ওজন কমাতে দু’টি প্রাকৃতিক উপাদান লেবু ও মধুর পানীয় সম্পর্কে অনেকেই জানেন। ওজন কমানো ছাড়াও লেবু ও মধুর অনেক গুণাগুণ আছে।
মধু কীভাবে ওজন কমায় :

মধুতে যদিও চিনি থাকে, কিন্তু এতে ভিটামিন ও মিনারেল থাকার কারণে এটি সাধারণ চিনির মতো ওজন না বাড়িয়ে বরং কমায়। কারণ সাধারণ চিনি হজম করতে আমাদের শরীর নিজের থেকে ভিটামিন ও মিনারেল খরচ করে, ফলে এসব পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হয়। এসব উপাদান ফ্যাট ও কোলেস্টেরল কমাতে বা ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে যখন আমরা বেশি চিনি খাই, তখন অধিক ক্যালরি শরীরে জমা ছাড়াও এসব পুষ্টি উপাদানের চিনি হজম করতে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হয়। তাই ওজন বাড়াতে পারে।
কিন্তু মধুতে এসব উপাদান থাকার ফলে এগুলো হজমে সহায়ক এবং ফ্যাট ও কোলেস্টেরল কমায়। তাই এই পানীয় ওজন কমায়।
তাছাড়া সকালে উঠেই শরীর যদি পানি জাতীয় কিছু পায়, তবে তা হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে একই রকম শারীরিক পরিশ্রম করেও আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধির কারণে ওজন কমতে পারে।
লেবু-মধু পানীয় বানানোর প্রণালি : 
এক গ্লাস হালকা বা কুসুম গরম পানি, আধা চা চামচ লেবুর রস, এক চা চামচ মধু। গরম পানিতে লেবু ও মধু মিশিয়ে পান করুন লেবু-মধু পানীয়। আপনি চাইলে এর সঙ্গে সবুজ চা মেশাতে পারেন।
যা লক্ষ্য রাখবেন :
-আগে পানি হালকা গরম করে তারপর লেবু ও মধু মেশাবেন। মধু কখনও গরম করতে যাবেন না।
-যদি ঠাণ্ডা পানিতে এটি পান করেন, তবে বিপরীত ফল হবে। মানে আপনার ওজন বাড়বে।
লেবু-মধু পানীয়ের উপকারিতা : 
-এই পানীয় শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়। শরীরের ভেতরের নালিগুলোর সব ময়লা বের করে দেয়।
-মেটাবলিজম বা হজম শক্তি বাড়ায়, ফলে ওজন কমে।
-ঠাণ্ডা লাগলে এই পানীয় কফ বের করতে সাহায্য করে এবং ঠাণ্ডা লাগলে গলাব্যথা করলেও এটি উপকারী।
-এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
-শরীরে শক্তি বাড়ায়, অলসতা কমায়।
-কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
কখন খাবেন : 
সাধারণত সকালে উঠেই প্রথম পানীয় হিসেবে খালি পেটে এটি খাওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরে সকালের নাস্তায় খেতে পারেন।
মধুর উপকারিতা :
•    মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ আলাদাভাবে থাকে, কিন্তু চিনিতে তা একসঙ্গে থাকে। ফ্রুকটোজ তাড়াতাড়ি গ্লুকোজের মতো শরীরে ক্যালরি হিসেবে জমা হয় না। তাই চিনির মতো মধু সহজে ক্যালরি জমা করে না। ফলে অল্প মধু খেলেও ওজন বাড়ার সম্ভাবনা কম।
-মধু শরীরকে রিলাক্স করে, মনকে প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে এবং সহজে ঘুমিয়ে পড়া যায়।
•    মধু প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক হিসেবে পরিচিত। যা শরীরের সব ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে ইনফেকশন দূর করে। ফলে শরীরের কাজ করার প্রণালিগুলো উন্নত হয় এবং মানুষ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়।
•    মধু হজমে সহায়ক। তাই বেশি খাবার খাওয়ার পরে অল্প মধু খেতে পারেন।
•    মধু ফ্যাট কমায়, ফলে ওজন কমে।
•    মধু প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি। তাই মধু সহজে হজম হয়।
•    চোখের জন্য ভালো।
•    গলার স্বর সুন্দর করে।
•    শরীরের ক্ষত দ্রুত সারায়।
•    আলসার সারাতে সাহায্য করে।
•    নালীগুলো পরিষ্কার করে।
•    ঠাণ্ডা লাগলে জ্বর, গলাব্যথায় ভালো ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
•    মধু এন্টি অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের রং ও ত্বক সুন্দর করে। ত্বকের ভাঁজ পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে।
•    বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে।
•    শরীরের সামগ্রিক শক্তি বাড়ায় ও তারুণ্য বাড়ায়।
লেবুর উপকারিতা :
•    লেবুতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা এন্টিসেপটিক ও ঠাণ্ডা লাগা প্রতিরোধ করে।
•    লেবুর এই উপাদানগুলো টনসিল প্রতিরোধ করে।
•    এছাড়া লেবুর ভিটামিন সি ক্যান্সারের সেল গঠন প্রতিরোধ করে।
•    লেবু বুক জ্বালা প্রতিরোধ করতে ও আলসার সারাতে সাহায্য করে।
•    লেবু আর্থাইটিস রোগীদের জন্য ভালো।
•    লেবু শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করে।
•    লেবু এন্টিঅক্সিডেন্ট। তাই ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ত্বক পরিষ্কার রাখে। ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে।
•    কালোদাগ ও ত্বকের ভাঁজ পড়া কমায়।
•    লেবু ওজন কমাতে সাহায্য করে।
•    লেবু হজমে সহায়ক ও হজমের সমস্যা দূর করে।
•    কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
•    শরীরের ভেতরের টক্সিন দূর করে, অন্ত্রনালী, লিভার ও পুরো শরীরকে পরিষ্কার রাখে।
•    পেট ফোলাজনিত সমস্যা কমায়।
•    রক্ত পরিশোধন করে।
•    ঠাণ্ডা লাগলে জ্বর, গলাব্যথায় ভালো ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
•    শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি হলে ভালো কাজ করে।
•    শ্বাসনালীর ও গলার ইনফেকশন সারাতে সাহায্য করে।
সাবধানতা :
যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তারা অবশ্যই এটি খালি পেটে খাবেন না। কারণ লেবু এসিটিক। তাই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে এটি খাবেন।
তাছাড়া লেবুর এসিড দাঁতের এনামেলের জন্য ক্ষতিকর, তাই এই পানীয় খাবার সঙ্গে সঙ্গে কুলি করবেন অথবা পানি খাবেন।
একটা কথা মনে রাখবেন, ওজন কমানোর জন্য এই পানীয় শুধুই সহায়কমাত্র। সম্পূর্ণ ওজন কমানোর প্রক্রিয়াতে অবশ্যই থাকতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শরীর চর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা। ( সুত্র: বাংলানিউজ)
লেখক : ডা. মালিহা শিফা, কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স কর্মকর্তা, মেরি স্টোপস

নাসার প্রতিযোগিতায় যাচ্ছে বাংলাদেশের রোবট

 নিজেদের তৈরি একটি রোবট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসার তৃতীয় লুনাবোটিকস মাইনিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছেন মিরপুর সেনানিবাসের মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ১১ জন শিক্ষক ও ছাত্র। গবেষণার জন্য চাঁদ থেকে কিভাবে ১০ মিনিটে অন্তত ১৫ কেজি বালি সংগ্রহ করা সম্ভব তা ৮০ কেজি ওজনের এ রোবট দেখিয়ে দেবে। শুধু এমআইএসটির মেধাবী কয়েকজন ছাত্রের উদ্ভাবিত রোবমিস্ট নামের এ রোবটই নয়, বাংলাদেশের ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও আইইউটির তৈরি আরো দুটি রোবট অংশ নিচ্ছে এ প্রতিযোগিতায়। মোট প্রতিযোগীর সংখ্যা ৬৯। এ প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে পুরস্কার পাওয়া পরের বিষয়, এতে অংশ নিতে পারাটাকেই বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গতকাল এ-সংক্রান্ত একটি ব্রিফিং সেশনে এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল হামীদ-আল-হাসান তাঁর লুনাবোটিকস দলের সদস্যদের বলেন, ‘তোমরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছ- এটাও অর্জন। পুরস্কার নিয়ে আসতে পারলে সেটি হবে আরো বড় বিষয়।
লুনাবোটিকস দলটি এ সময় তাদের উদ্ভাবিত রোবটের বিস্তারিত বিষয় উপস্থাপন করেন। দলটিতে রয়েছেন এমআইএসটির অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চার শিক্ষার্থী জালাল উদ্দিন, বদিউজ্জামান ও রেজওয়ানুল হক জাহিদুল ইসলাম এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মোহাম্মদ ইউসুফ। এঁরাই এ রোবটটি তৈরি করেছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আগামী ২১ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত কেনেডি স্পেস সেন্টারে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
চন্দ্রবট : এদিকে এ প্রতিযোগিতায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্স টিমের তৈরি যে রোবটটি লড়তে যাচ্ছে তার নাম ‘চন্দ্রবট’। মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড এ ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আইনুন নিশাত গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনডোর গেমস রুমে এ চন্দ্রবটের উদ্বোধন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক ছাড়াও রবির ব্র্যান্ড ও মার্কেট কমিউনিকেশন্স বিভাগের এঙ্িিকউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জাবিদ আহসান ও জেনারেল ম্যানেজার গাজী ইমরান আল-আমিন উপস্থিত ছিলেন।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয়বারের মতো নাসা থেকে এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অনুমতি পায়। এবারের প্রতিযোগিতার জন্য ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় উপদেষ্টা ড. মো. খলিলুর রহমান, ড. মো. মোসাদ্দেকুর রহমান, ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন ভূঁইয়া, টিম লিডার মো. জুনায়েত হোসেন, মাহমুদুল হাসান অয়ন, কাজী মোহাম্মদ রাজিন অনিক, সারা বিনতে নাসির নাবিয়া, মিরান রহমান, নাবিল সাকের রাহী, বনী আমিন খান, ফাহিম আল হাসনাইন, মোহনা গাজী মীম ও খাইরুল হাসানকে নিয়ে এ-সংক্রান্ত দল গঠন করা হয়েছে। দলটি অতীতের বিভিন্ন সাফল্য ও ব্যর্থতা পর্যালোচনা করে লুনার এক্সাভেশনের জন্য সময়োপযোগী ও বাস্তবধর্মী একটি মডেল তৈরি করেছে।

বাজারে আসছে পানি ও রাস্তায় চলা গাড়ি ‘সি লায়ন’


পিচ রাস্তা আর জলের ওপর দিয়েও চলবে এমন গাড়ির কথা কিছুদিন আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল। এরই মধ্যে কেউ কেউ উভচর গাড়ি তৈরির ঘোষণা করলেও এবার গতির রেকর্ড ভেঙ্গে বাজারে আসছে নতুন উভচর গাড়ি ‘সি লায়ন’।
গাড়িটি একই সঙ্গে ডাঙ্গায় ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার ও জলে ৬৫ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। দীর্ঘ ছয় বছর পরিকল্পনা শেষে মার্ক উয়িট নামে এক ব্যক্তি এই গাড়িটি তৈরিতে সক্ষম হন। অ্যালুমনিয়াম ও স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে তৈরি গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৭৪ হর্স পাওয়ারের ইঞ্জিন।
এছাড়া পুরোপুরি ওয়াটার গ্রুপ গাড়িটি এমন ভাবে তৈরি হয়েছে যে যা জলে রেকর্ড পরিমান গতি তুলতে সক্ষম। গাড়িটি ইতিমধ্যেই সবচেয়ে গতি সম্পন্ন উভচর গাড়ির খেতাব জিতে নিয়েছে। এর গতি নিয়ে গাড়িটির আবিষ্কারক মার্ক বলেছেন, ‘অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম এমন একটা গাড়ি তৈরি করব যেটা জলে-স্থলে দুটোতেই চালান যাবে। সেই স্বপ্ন সত্যি কতে পেরে দারুণ লাগছে।’ গতি প্রেমিকরা হয়তো ভাবছেন গাড়িটির দাম কত পড়বে? বেশি নয়, সি লায়নকে আপনার গ্যারেজে রাখার জন্য খরচ করতে হবে মাত্র ২১ কোটি ২৭ লাখ ৯ হাজার টাকা বা ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ ডলার।

মঙ্গলবার, ১৫ মে, ২০১২

কিছু মাসুদ ভাইয়ের গল্প / মো: মাহমুদুর রহমান সুজয়


আজ খুব বৃষ্টি হলো । আমার জীবনে এত বৃষ্টি দেখিনি । রেডিওর ব্যাটারিও শেষ , দোকানে যেতে হবে দুটা ব্যাটারি কিনতে । দেখি বৃষ্টি কিছুটা কমলে দোকানে যেতে হবে ।
এসব কথা ভাবছিলেন মাসুদ রানা । একজন সুঠাম দেহের অধিকারি , মাথা ভর্তি চুল বয়স ২৬ এর কাছাকাছি । রেডিওর কোন অনুষ্ঠান শোনা বাদ দেননা । তাই সপ্তাহে দুটা করে ব্যাটারি বদলাতে হয় । আজও তার ব্যাটারি শেষ । কিন্তু কিছুক্ষন পরে খবর শুরু হবে । খবর না শুনলে রাতে তার ঘুম হয় না । তাই বৃষ্টিতে সামান্য ভিজেই দোকানে গেলেন ব্যাটারি আনতে ।
ব্যাটরি নিয়ে বাসায় এসে দেখে জানালা খোলা , বৃষ্টির পানি এসে মেঝে ভিজে গেছে । তারাতারি জানালা লাগিয়ে বসে পরলেন খবর শুনতে । খবরে বলা হচ্ছে ঢাকা শহর খুব উত্তাপ্ত , ছাত্ররা খুব আন্দোলন করছে পশ্চিম পাকিস্থানের বিরোদ্বে । মাসুদ ভেবে পায়না এত আন্দোলনের কি হলো । খালি একবার হাই তোলে বললো , হাইরে দেশ এই দেশে রাজনীতি করার কি হলো । সবাই আন্দোলন আন্দোলন করে , আন্দলোন করে কি হবে ?
এইসব বলতে বলতে ঘুমে ধরে গেল । রেডিওতে এখন একটি গানের অনুষ্ঠান হচ্ছে , সম্ভবত মান্নাদের গান হচ্ছে । রেডিও বন্ধ করে মাসুদ ঘুমাতে যায় ।
সকালে ঘুম ভেঙ্গে দেখে বাইরে বৃষ্টি নেই । তাই তারাতারি রেডি হয়ে বাজারে দোকান খোলতে যায় । যাওয়ার সময় বলে যায় , মা দুপুরে আজ খেতে আসবো না । এই বলে হাতে রেডিওটি নিয়ে , বাজারের দিকে রওনা হলো ।রাস্তায় তার বন্ধু আরিফের সাথে দেখা । কি খবর আরিফ ঢাকা থেকে কবে আসলি ? আরে মাসুদ তোর কাছেই যাচ্ছিলাম ,বললো আরিফ । কেন কি মনে করে ? না তেমন কিছু না সকাল দশটার খবর শুনতে হবে আর আমার রেডিওটা ঢাকায় রেখে এসেছি । ও আচ্ছ এখন তো দশটা বাজতে আরও ২০ মিনিট আছে চল দোকানে গিয়ে খবর শুনি বললো মাসুদ । আচ্ছা আরিফ খবরে শুনি ঢাকায় এত গন্ডগোল এর কারন কি ? কিসের এত আন্দোলন করছিস তোরা ?
মাসুদ, তারা আমাদের রক্ত চুশে নিচ্ছে , তারা আমাদের উপর রাজত্ব করতে চাচ্ছে । আমরা ভোটে জিতলাম তার পরও আমাদের তারা ক্ষমতা দিচ্ছেনা ।
তাহলে কি করবি আরিফ , বললো মাসুদ । প্রয়োজনে যুদ্ব করবো তাদরে সাথে ।
না আরিফ এটা একটা কথা বললি ? মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই আর তাদের বিরুদ্বে  যুদ্ব করবি ? বলে মাসুদ ।
মাসুদ একটা কথা শুন , ভাই যখন ঘাড়ে উঠে তখনও সেটা মানা যায় কিন্তু যখন সে ঘাড়ে উঠে মাথার চুল টানে তখন নামিয়ে দিতে হয় । আর আমরা সেটাই করবো । কথা বলতে বলতে বাজারে এসে পরলো ।
এখানে মাসুদের ছোট একটি মনিহারি দোকান আছে । দোকান খোলে ঝাড়ু দিয়ে , রেডিও চালু করতেই দশটার খবর শুরু হলো । খবরে সেই একই কথা ঢাকার আন্দোলন চলছে । ছাত্ররা মিছিল করছে প্রতিদিন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা জমা হচ্ছে মিছিল করার জন্য । খবর শুনতে শুনতে মাসুদ বললো , আচ্ছা আরিফ তোরাকি পারবি এই দেশটাকে মুক্ত করতে । আরিফ বলে অবশ্যই পারবো ৫২ এর ভাষা আন্দোলনেও আমরা আমাদের অধিকার নিয়েছি ।এবারও আমরা পাবরো । মাসুদ একটু উদাস হয়ে বলে , হুম তাই কর আমরা তো আর পারবো না , তোরা শিক্ষিত মানুষ তোরা যেটা ভালো সেটাই করবি ।
আচ্ছা ঢাকা যাচ্ছিস কবে ?
কাল দেখি যাওয়া যায় কিনা । আচ্ছা মাসুদ তুই থাক আমি যাই , আমাকে একটু গঞ্জে যেতে হবে । আচ্ছা যা রাতে আসিস এই বিষয়ে আলাপ করবো । বললো মাসুদ ।
মাসুদ সারাদিন ভাবে এই দেশে কি এসব হচ্ছে সবাই অধিকার নিয়ে ব্যাস্ত , কিন্তু তারা কি নিজেদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে পারবে ?
এদিকে মাসুদের মা মাসুদকে বিয়ে করাবে এ নিয়ে উদ্বেগ । প্রতিদিনই পাত্রীর সন্ধান করে ঘুরছেন । আগামীকাল রসুলপুর যাবে পাত্রী দেখতে এনিয়ে পাশের বাড়ির মানুষের সাথে নানা আলোচনায় সারাদিন ব্যাস্ত হামিদা বানু । প্রাত্রী এই রকম , সেইরকম, ঘটক বলেছে । এসব আলোচনা করতে করতে পান চিবাচ্চে , এই মুহূর্তে হামিদা বানুর মত সুখি মানুষ এই পৃথিবীতে  কেউ নেই, যে কেউ তাকে দেখলে তাই ভাববে । তার স্বামী মারা গিয়েছে গত দুই বছর আগে , রক্ত বমি করতে করতে একরাতে তিনি মারা যান । এরপর মাসুদই তার বাবার দোকান দেখা শোনা শুরু করে ।
এখন রাত সাতটা বাজে আরিফের আসার কথা এখনও আসলোনা , ব্যাপার কি ? এই কথা ভাবতেই আরিফ এসে গেল তার সাথে আরও দুজন , তাদেরকে মাসুদ কখনও দেখেনি ।আরিফ মাসুদকে বললো , মাসুদ এরা আমার ঢাকার বন্ধু , ভার্সিটিতে বিশেষ গন্ডগোলের জন্য তারা এখানে চলে এসেছে , পুলিশ যাকে পাচ্ছে তাকই ধরে নিয়ে যাচ্ছে ।
কেন ধরছে কেন ? মাসুদ খুব বিচলিত হয়ে বললো ।
আরে মাসুদ এরা সবাই আন্দোলনের সাথে জড়িত । তাই পুলিশ এদের খুজছে । এই বলে আরিফ তার দুই বন্ধুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় । একজনের নাম রাজু , আরেক জনের নাম কামাল । রাজুর বয়স ২২-২৪ বছরের মধ্যে হবে , খুব হেংলা , মনে হয়ে সামান্য বাতাসে উড়ে যাবে । আর কামাল একজন সাস্থবান মানুষ , অনেক লম্বা । বয়স হবে হয়ত ২৫ এর কাছাকাছি । আপনারা বসুন , বললো মাসুদ । তারা সবাই বসে , এরি মধ্যে মাসুদের মা এসে পরে ,
কাল মাসুদের জন্য পাত্রী দেখতে যামু আরিফ । আরিফ বলে কোন এলাকায় যাকেন খালা ?
রসুলপুর , আলি শেখের মাইয়া , হুনছ বাবা মাইয়াটা দেখতে বলে এহবারে পরির লাহান ।
আপনি কিভাবে জানলেন মেয়ে পরির মত দেখতে ? আরিফ হেসে হেসে প্রশ্ন করে  ।
আরে বাবা আমি জানিনা ঘটক কেইলো । আচ্ছা এরা কারা আরিফ ?
এরা আমার বন্ধু ঢাকা থেকে বেড়াতে এসেছে । ও আইচ্ছা ঠিক আছে আমি এহন নমজ পরমু । আচ্ছা খালা যান নামাজ পড়েন । আর খালা আপনি নামাজে একটু আমারে মায়ের জন্য দোয়া করবেন ? কেন আরিফ তুমার মায়ের কি অইচে ? না কিছু না মা আজ খুব অশান্ত , মায়ের সন্তানেরা আজ মায়ের সম্মান বাচাতে খুব ব্যাস্ত ।
তুমাগো কথা কিছু বুঝিনা । শিক্ষিত মানুষের এই এক সমস্যা তাগরে কথা বুঝা যায় না ।এই কথা বলতে বলতে মাসুদের মা চলে যায় ।
মাসুদ তুই বিয়ে করতাছস আর কিছু জানাইলিনা ? আরিফ অভিমানের সুরে বলে ।
আরে মা তো আমাকে পারলে প্রতিদিনই একটি করে বিয়ে করায় , এই বলে হা.হা.হা….. করে হেসে দেয় মাসুদ । সাথে সাথে সবাই হসে , রাজু, কামাল ও হাসে , তারা এই মুহূতে ভুলে গেছে যে তারা এক বিশেষ সমস্যা  আছে ।সবাই আলাপ করতে করতে রাত দশটা বেজে গেল । তখন আরিফ বললো , মাসুদ আমরা যাই অনেক রাত হয়ে গেছে । আজ থাকই তোরা সবাই সারারাত গল্প করি । আরিফ রাজু , কামালকে বললো থাকবি ? তারা বললো থাকা যায় , সারারাত গল্প করিনা অনেকদিন হয় । তারা সারারাত গল্প করে কাটিয়ে দিল ।
পরদিন মাসুদ দোকান খোললো দুপুর ১ টার পর । আরিফ তার দুই বন্ধু নিয়ে গ্রামে ঘুরাঘুরি করছে । তারা ৩ টার সময় বাজারে আসবে বলেছে ।মাসুদ এখন ২ টার খবর শুনছে । ঢাকার অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে ।জরুরি অবস্থার মধ্যে আছে ঢাকা শহর । বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্ফিও জারি করা হয়েছে । সবাই খুব ভয়ে আছে । কখন কি হয় বলা যায় না । খবর  শুনে মাসুদের মনটা খারাপ হয়ে গেল ।
এদিকে মাসুদের মা রসুলপুর গিয়েছে পাত্রী দেখতে , হামিদা বানু পাত্রীর কথা যেরকম শুনেছিলেন , তারচেয়ে পাত্রীটাকে তার কাছে বেশী সুন্দ লাগছে । খুব সুন্দর একটি চেহারা , চোখ দুটোবড় বড় , লম্বা চুল । কি যে সুন্দর লাগছে মেয়েটাকে । হামিদা বানু মনে মনে বললেন এই মেয়ে দিয়েই মাসুদ কে বিয়ে করাবে ।
বিকাল ৩ টা বাজে এখনও আরিফ আসছে না । মাসুদ এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে , আকাশে কেমন যেন একটি রিক্ত রিক্ত ভাব । আকাশে কোন মেঘ নেই, শুধু নীল । বাতাসে কেমন যেন উদাস উদাস একটা ভাবও আছে। মাসুদের মনটা হঠাৎ করে ছ্যাত করে উঠে । সে বুঝতে পারেনা তার এরকম কেন লাগছে । এসময় আরিফ আসে সাথে রাজু আছে কিন্তু কামাল নেই । কি খবর আরিফ এত দেরি কেন আর কামাল ভাই কই ?
দেরি হলো কারন আছে , মাসুদ কাল শেখ মুজিব ভাষন দিবে । আর সে জন্য কামালকে ঢাকা পাঠালাম । সে সেই মাঠে উপস্থিত থাকবে । এবার মনে হয় মাসুদ আমরা জিতে যাব ।
কিসের ভাষন হবে কি জিতবি ভাই , তোর কথা তো কিছুই বুঝতে পারছি না । 
মাসুদ আজ রাতে আমরাও ঢাকা যাব তুই যাবি আমোদের সাথে ?
দেখি কি করি , একটি হতাশার সুর নিয়ে বলে মাসুদ । রাতে মাসুদ তাদের সাথে ঢাকা যায় , ঢাকা গিয়ে রেসর্কোস ময়দানের কাছাকাছি তারা রাতটা কাটায় । এরি মধ্যে তাদরে সাথে ২০-২৫ জন ছাত্র যোগদেয় । মাসুদের কাছে কেমন যেন বিষয়টি এডভান্চর , এডভান্চর মনে হয় । খুব মজা পাচ্ছে মাসুদ ।
সকাল হলো , হাজার হাজার মানুষ কোথা থেকে যেন আসতে শুরু করলো । মাঠটি কানায় কানায় ভরে গেল । এরি মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ভাষন শুরু করলেন ।
মাসুদ অবাক হয়ে ভাষন শুনতে থাকলো । সে ভাবলো একটি মানুষ কি ভাবে এমন সুন্দর কথা বলে। মাসুদের মনে শুধু একটি কথা বাজতে থাকলো এবারের সংগ্রাম আমদের মুক্তির সংগ্রাম , এবারের সংগ্রমা আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম । কোন ভাবেই সে এই কথাটি তার মস্তিস্ক থেকে বের করতে পারছিলো না । আস্তে আস্তে যেন আওয়াজটি তার কানে জোরে জোরে বাজতে থাকলো । সে একটি নেশার মধ্যে পরে গেল । মাসুদ ভাবতে থাকলো এই দেশ না থাকলে আমারে থেকে লাভ কি । আমি আছি এই সাবার সাথে ।
ভাষন শেষ হলো , আরিফ মাসুদকে জিজ্বেস করে । মাসুদ তুই কি এখন চলে যাবি ? আমাদের একটু কাজ আছে । মাসুদ ভাঙ্গা কন্ঠে বলে , আচ্ছা আরিফ যাদের লেখাপড়া নেই তারা কি তোদের সাথে দেশের জন্য কিছু করতে পারবে ? এই কথা বলতেই আরিফ মাসুদকে জড়িয়ে ধরে ফেললো । মাসুদ আবেগ ধরে রাখতে পারলো না , সে কেঁদে ফেললো ।
আজ রাতে মিটিং আছে সবার সাথে সেখানে দেখা হবে । এই বলে আরিফ রাজু এবং মাসুদকে নিয়ে চলে গেল ।
রাত ১২ টা কিংবা তার উপরে বাজে সাবাই একটি ঘরে বসে আছে । এদিকে শহরের অবস্থা খুব খারাপ । সারা শহরে পুলিশ গিজগিজ করছে । এর মধ্যে সবাই যে কি ভাবে আসলো ভেবে পায়না মাসুদ ।
কথা শুরু হলো । আরিফ কথা বলছে , আজ আমরা যুদ্ব করার সনদ পেয়ে গেছি । যুদ্ব শুরু হয়ে গিয়েছে । আমরা তো বেশী কিছু চাইনি শুধু চেয়েছিলাম আমাদের অধিকার , কিন্তু তারা আমাদের সেটাও দিবে না । তারা আমাদেররক্তে মজা পেয়ে গিয়েছে । কিন্তু আমরা তা মানি না , আমরা জীবন দিতে প্রস্তুত কিন্তু দেশের ইজ্জত দিব না । আমরা সবসময় র্নিযাতিত হয়েছি । কিন্তু আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে এখন আমরা হয়ত মরবো না হয় মারবো ।
কথা বলে যাচ্ছিলো আরিফ , মাসুদ খুব মনযোগ দিয়ে কথা গুলো শুনছিলো । মাসুদ সব ভুলে গিয়ে মনে মনে সিদ্বান্ত নিল আমিও এই দেশের জন্য কিছু একটা করবো ।
সব শেষে সিদ্বান্ত হলো সবাই যুদ্বে যোগ দিচ্ছে । সবাই কাল নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে আন্দোলন গরে তোলবে । এই বলে সবাই বিদায় নিল । এদিকে যুদ্ব শুরু হয়ে গিয়েছে । আরিফ , রাজু ,মাসুদ এজ আবার কামালও এসে পরেছে। এরা সবাই এক হয়ে গ্রামে  চলে আসলো । গ্রামে রাতে একটি মিটিং ডাকলো আরিফ , সেখানে গ্রামের প্রায় যুবক উপস্থিত থাকলো । আরিফ দেশের এই পরিস্থিতির কথা তুলে ধরলো । যুদ্ব শুরু হয়ে গিয়েছে সেই কথাও বললো ।প্রায় যুবকই যুদ্বে যাবে বললো । আরিফ বললো আমরা আমাদের গ্রামেই প্রশিক্ষন নিব । আমি কাল ঢাকা গিয়ে সেক্টর কমান্ডারের সাথে কথা বললো । পরদিন আরিফ ঢাকা গিয়ে কমান্ডারের সাথে কথা বললে কমান্ডার তাকে একজন প্রশিক্ষক দিয়ে দেন এবং পরবর্তিতে অশ্ত্র নিয়ে যেতে বলে দেন ।প্রশিক্ষকের নাম সামউল ইসলাম । আর্মিতে কাজ করতেন কিন্তু যুদ্ব চলছে বলে তিনি মুক্তিযুদ্বাদের প্রশিক্ষন দিচ্ছেন ।একজন বলশালী মানুষ হাতে মনে হয় বাঘের শক্তি , এই বিসয়টি আরিফ বুঝলো যখন আরিফের কাছ থেকে ব্যাগ নিল তখন , এমন ভাবে টান দিল যেন হাতসহ ছিড়ে যাবে ।
আরিফ গ্রামে প্রশিক্ষক নিয়ে এসে পরেছেন এই খবর সেইসব যুবকের কাছে পৌছে গেল ।আজ রাতে আবারো একটি মিটিং ডাকা হলো , আকাশে চাদ নেই চারিদিকে অনেক অন্ধকার । একটি বোগা (বড় বাতি) জ্বালিয়ে  মির্টিং শুরু হলো ।আরিফ প্রশিক্ষকের সাথে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিলেন ।আর কাল থেকে প্রশিক্ষন শুরু হবে বলে জানিয়ে দিলেন ।
এদিকে মাসুদের মা , মাসুদকে বিয়ে করাবে বলে পাগল হয়ে গিয়েছে । মাসুদ যতই বলেযে দেশের পরিস্থিতি ভালো না এখন বিয়ে করা সম্ভব না , তার মা ততই বলে ,দেশের সাথে তর বিয়ার সর্ম্পক কি । এরকম মাইয়া আর ১৪ গ্রামে খুজলে আর পাইবনা । মাসুদ কথা কানে না নিয়ে ভাবছে । আজ বিকালে ট্রেনিং , কিন্তু বাজারে দোকানও খোলতে হভে , কি করা যায় । ভেবে ভেবে বলে ,একটি দেশ বড় না আমার দোকান বড় ?
বিকালে ট্রেনিং শুরু হলো , সবাই খুব ইৎসাহের সাথে ট্রেনিং করলো । সামনের সপ্তাহে গুলি করা শিখানো হবে , শুনে সবাই আরও একসাইটেট হলো । খুব সুন্দর ভাবে ট্রেনিং  র্কাযক্রম শেষ হওয়ার পর , এখন একেক জনকে একেক সেক্টরে পাঠানো হবে বলা  হলো । মাসুদ আর রাজু এক সেক্টরে পরলো আর আরিফ আর কামাল আরেক সেক্টরে । কারো সাথে আর কারো দেখা হবে না এই ভেবে অনেক কষ্ট হলো সবার । আরিফ মাসুদকে বলে , মাসুদ জীবনে আর দেখা নাও হতে পারে । সবসময় মনে রাখবি এই দেশের এখন সব দ্বায়িত্ব তোর কাছে , তোর হাতে এই দেশের ভবিষ্যত লুকিয়ে আছে । নিজের দিকে খেয়াল রাখিস । এই বলে আরিফ বাসে করে চলে গেল । আরেক দিকে মাসুদ বাড়ি থেকে  মায়ের কাছে বিদায় নিচ্ছিলো  কিন্তু মাসুদের মা তাকে বিদায় দিবেনা । সে বলে । বাবা আমি তোকে বিয়ে করাইতে চাইলাম আর তুই যাবি যুদ্বে ? আমি তরে যাইবার দিমু না । তুই বাবা যাইসনা । আমি একলা একলা এই বাড়িতে থাকবার পারমুনা ।
মাসুদ তখন তার মাকে বলে , মা শুন তুমি যেমন অসুস্থ হলে আমি তোমাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাই , তোমার কিছু হলে যেমন আমি পাগল হয়ে যাই , ঠিক তেমন এই দেশ্ও একটি মা আর এই মায়ের জন্যই আমি যুদ্বে যাব ।মা শুধু দোয়া করো আমি যেন এই মাকে বাচাতে পারি । মাসুদ তার মার উত্তরের আশায় না দাড়িয়ে চোখে পানি নিয়ে বেরিয়ে পরলো ।
দেশ স্বাধীন হলো , মাসুদ যুদ্ব থেকে বাড়ি ফিরলো , বাড়ি গিয়ে দেখলো তার সেই বাড়ি আর নেই পুড়ে দিয়েছে হানাদারেনা । যুদ্বে মারা গিয়েছে আরিফ, রাজু , কামালও এক পা হারিয়ে এখন পঙ্গু । এরপর একসময় মাসুদের বাড়ির জায়গা রাজাকারেরা নিয়ে নিল । বাজারের দোকানও পুড়িয়ে দিয়েছে সেই অনেক আগে ।
আজ অনেক দিন পর যখন ৪০ বছর পার হয়ে গিয়েছে তখন মাসুদ ঢাকার রাস্তায় ভিক্ষা করে । মাসুদকে একরাব একজন মুক্তিযুদ্বা ভাতার ব্যবস্থা  করে দিতে চেয়েছিলেন , কিন্তু মাসুদ তা নেয়নি । সে বলে আমার বন্ধু এবং আমি যুদ্ব এই ভাতার জন্য করিনি । আমরা যুদ্ব করেছিলাম মায়ের জন্য । মায়ের সম্মান বাচিয়ে টাকা নেই না । লোকটি এসব কথা শুনে  বললো , ফকিরের বাচ্চার আবার কত বড় বড় কথা ।
কিন্তু আজ্ও সে নিজের কাছে  গর্বিত ।নিজেকে অনেক বড় মনে করে মাসুদ । ভাবে আমি যদি যুদ্ব না করতাম তাহলে তোমরা এই গাড়ি বাড়ি করতে পারতে না । এটাই ভেবে   সে প্রতিদিন ঘুমায় । কিন্তু আজ তার কাছে আর সেই রেডিওটি নেই । তাই ব্যাটারিরও চিন্তা নেই । সে আর খবর শুনে না , শুনেনা ঢাকার অবস্থা উত্তপ্ত ।
মাসুদ আজও সেই রেসর্কোস ময়দানের পাশে শুয়ে থাকে , ভাবে আবার একদিন বঙ্গবন্ধু হয়ত বলবে এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম ।

-- 
মো: মাহমুদুর রহমান সুজয়

সোমবার, ১৪ মে, ২০১২

কবিতা / জীবন নদীর ধারা - আবুল বাশার শেখ


“জীবন নদীর ধারা”
   

জীবন এখন থমকে দাঁড়ায়
 সময় চলছে তার মতো,
 ভাবিনা এখন আগের মতন
 দূরে রছেছে ভাবনা যতো।
 পথের পাশে নদীর দ্বারে
 বসিনা একলা একা,
 কামনা নেই মনের মাঝে
 হয়না কবিতা লেখা। 
 রাত জাগিনা কথা বলিনা
 স্বপ্ন দেখিনা জেগে,
 প্রেয়সীর সাথে হয় না কথা
 হেসে কিংবা রেগে।
 আমার জগত গড়েছি এখন
 আমার মতো করে,
 কারো বসতি নেইতো এখন
 আমার মনের ঘরে।
 তাং- ০৮/ ০৫/ ১২ ইং